জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসিতে পা দিলে প্রাচীন গির্জাগুলো না দেখে যেমন থাকা যায় না। ঠিক তেমনই জর্জিয়ান সুন্দরীদের প্রেমে না পড়েও নিস্তার নেই। ওই নীল চোখের তারায় তারায় পথ হারিয়েছি। মেট্রোতে চড়ে এক স্টেশনে নামার বদলে আরেক স্টেশনে গিয়ে নেমেছি। আভলাবাড়ির (রাস্তার নাম,মোট্রোস্টেশনও আছে) ফুটপাথে নেশাগ্রস্তের মতো চরকি কেটেছি। দলবেঁধে পরীর দল কোথা থেকে আসে আর কোথায় ভেসে যায় কে জানে? এ যেন শ্রাবণের মেঘ। ভেসে যায় উড়ে যায় আমাকে একলা রেখে। আপনি যদি মহিলা হয়ে থাকেন তাহলে বেঁচে গেলেন এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। এখানকার রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ায় হাজার হাজার সলমন,আমির,শাহরুখ, হৃত্বিক রোশন থেকে রণবীর কাপূররা। ফলে হৃদয়ে ঢেউ উঠতে বাধ্য। প্রেমে পড়তে পড়তে ক্লান্ত হলে একটা দাওয়াই আছে আর তা হল জর্জিয়ান ওয়াইন। এদেশে এসে ওই তরলটির স্বাদ না নিলে গোটা সফরটাই ব্যর্থ। রুস্তাভেলিতে প্রচুর রেস্তোরাঁ ও পানশালা রয়েছে। ফলে ঢুকে পড়লেই হল। ওয়াইনের সম্ভার দেখলে ঘুম ছুটে যাবে। এমনকি দিনভর ব্যর্থ প্রেমের রচিত কাহিনিও ভুলে মেরে দেবেন। ভাবছেন নেশা হয়ে গেছে। তাই হুঁশ নেই। বিলকুল নয়। এক লিটার ওয়াইন খেলেও তা হবে না। কারণ এই হাজার রকম ব্র্যান্ডের ওয়াইন একেবারে বাছাই করা আঙুরের রস থেকে তৈরি। আর এতে অ্যালকোহলের মাত্রা বড়জোর চোদ্দ থেকে কুড়ি শতাংশ। এমনকি সুইট বা সেমি সুইট ওয়াইনও পাওয়া যায়। এদেশের ‘কাখেটি’ বলে একটা অঞ্চল আছে। সেখানে চাষ হয় আঙুরের। তৈরি হয়ে গ্যালন গ্যালন ওয়াইন। গোটা পৃথিবীতে জর্জিয়ান ওয়াইনের কদর। এদেশের অর্থনীতিকেও অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে ওয়াইন তৈরি ও তার রপ্তানির পরিমাণ। রঙ-বর্ণ-স্বাদ-গন্ধ দিয়েই বিচার হয় ওয়াইনের কোয়ালিটি। ওয়াইনের নামগুলোও বিচিত্র ধরণের। সে উচ্চারণ করতে গেলে জর্জিয়ার ভাষা শিখতে হবে। কারণ উচ্চারণগুলো বড় বিদঘুঁটে। বোরিয়া ও মারিয়ম আমাকে কয়েকটা পাখি পড়ার মতো করে শিখিয়েছিল। কিন্তু কিছুতেই মনে রাখতে পারিনি। মনে রাখার দরকার কি? ওই নীল চোখের দিকে তাকিয়ে দেবদাস হওয়া ছাড়া গতি নেই যে। শুধু মনে রেখেছি এক লিটার সাধারণ ওয়াইনের দাম তিন ‘লারি’ (ভারতীয় মুদ্রায় ৮১ টাকা।) আর সেমি সুইট ওয়াইনের দাম আট লারি (২১৬ টাকা।)। পকেটে কিছু ‘লারি’ এখনও অবশিষ্ট আছে। ওয়াইনে হুঁশ লোপ পায় না ফলে রুস্তাভেলি মেট্রো স্টেশনটা ঠিক খুঁজে পাব। আপাতত “নাখোয়ামদিস।” মানে Bye.
পাহাড়ের মাথায় এক দুর্গের গল্প। সুমদো থেকে টাবো হয়ে যে রাস্তাটা কাজা চলে গেছে সেই রাস্তা ধরেই ছুট ছিল গাড়ি। ক্রমশ পিছনে সরে যাচ্ছিল হিমালয়ের অজন্তা টাবো। রাস্তা খারাপ নয়,জানলার কাচ দিয়ে দেখছিলাম এক রূপকথার রাজ্য সরে সরে যাচ্ছে। এক এক জায়গায় রুক্ষ ন্যাড়া পাহাড় গড়াতে গড়াতে নেমে এসেছে নীচের দিকে। আর সেই রুক্ষ উপত্যকা চিরে বয়ে গিয়েছে রূপসী স্পিতি নদী। একেবারে টার্কিশ ব্লু রঙের জল। তার রূপের ছটা নেশা ধরিয়ে দেয়। আহা জলের শরীরেও এমন রং ধরাতে পারে স্পিতি উপত্যকার আকাশ। যেন কোন যুবতীর শাড়ির আঁচল বিছিয়ে রাখা এই রুক্ষ প্রান্তর জুড়ে । স্পিতি নদী। কাজা যাওয়ার পথে ২৪ কিলোমিটার আগে সিচলিং থেকে ডান দিকে একটা রাস্তা খাঁড়া উঠে গেছে পাহাড়ের ওপর। সে পথে আট কিলোমিটার গেলেই ধানকার। কিন্তু সিচলিং আমার পথ আগলে দাঁড়াল। চালক বাবাজিকে বললাম,“থোড়া রুকিয়ে ইধর।” চালকের এই জনমানবহীন প্রান্তরে থামার আদৌ যে ইচ্ছে ছিল না তা তার মুখ দেখেই বুঝতে পারছিলাম,কিন্তু সওয়ারি লক্ষ্মী । আর এই ক’দিনে তিনিও বু...

Comments
Post a Comment