নৈঃশব্দের খুব কাছে এলে মানুষ নিজেকে হারায়। আমিও হারালাম। নির্জনতারও তো একটা ভাষা থাকে যে ভাষা বুঝতে গেলে এমন নগ্ন প্রকৃতির কাছে এসে দাঁড়াতে হয়। মিশে যেতে হয় প্রকৃতির শরীরে। যারা পারেন তাঁদের কাছে প্রকৃতি মানে অফুরান রং। আর যারা পারেন না, তাঁদের কাছে প্রকৃতি টাচ স্ক্রিনের ওয়াল পেপার হয়েই থেকে যায়। যে বাড়িঘর গুলোকে একটু আগে ছোট ছোট ঝুলনের বাড়িঘরের মতো লাগে, সেগুলোই একটা সময় হাতের নাগালের মধ্যে চলে আসে। নিপাট একটি গ্রাম বলতে যা বোঝায় উর্গমও ঠিক তাই । ছোট ছোট ঘরবাড়ির পাশে ধানের গোলা। সামনের উঠোনে ক্ষেত থেকে তুলে আনা রামদানা ঝাড়াই বাছাই করে রাখা। এই রামদানা পেষাই করে তৈরি হবে আটা। রোদে শুকোচ্ছে রাজমা। এই উপত্যকায় রাজমার চাষও হয়। বাড়ির চৌহদ্দিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে মুরগি। শিমুল তুলোর মতো তুলতুলে ছানাপোনা গুলো দৌড়োচ্ছে মায়ের পিছন পিছন। তারস্বরে চেঁচাচ্ছে লাল ঝুঁটিওয়ালা মোরগ। একটা ডাকলে পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ভেঙে দূর থেকে আরেকটা ডেকে ওঠে। মোরগের ডাক শুনলে কেন জানি না আমার মনের ভেতর একটা ছটফটানি জাগে। সেই ছটফটানি আমাকে স্থির থাকতে দেয় না। মন বলে আরও গভীরে যাও। কত গভীর? খাদের অতলে? সেখানে কি আরেক আমার বাস। যে আমার হাত ধরে টানে। সেই টান আমি উপেক্ষা করতে পারি না।
পাহাড়ের মাথায় এক দুর্গের গল্প। সুমদো থেকে টাবো হয়ে যে রাস্তাটা কাজা চলে গেছে সেই রাস্তা ধরেই ছুট ছিল গাড়ি। ক্রমশ পিছনে সরে যাচ্ছিল হিমালয়ের অজন্তা টাবো। রাস্তা খারাপ নয়,জানলার কাচ দিয়ে দেখছিলাম এক রূপকথার রাজ্য সরে সরে যাচ্ছে। এক এক জায়গায় রুক্ষ ন্যাড়া পাহাড় গড়াতে গড়াতে নেমে এসেছে নীচের দিকে। আর সেই রুক্ষ উপত্যকা চিরে বয়ে গিয়েছে রূপসী স্পিতি নদী। একেবারে টার্কিশ ব্লু রঙের জল। তার রূপের ছটা নেশা ধরিয়ে দেয়। আহা জলের শরীরেও এমন রং ধরাতে পারে স্পিতি উপত্যকার আকাশ। যেন কোন যুবতীর শাড়ির আঁচল বিছিয়ে রাখা এই রুক্ষ প্রান্তর জুড়ে । স্পিতি নদী। কাজা যাওয়ার পথে ২৪ কিলোমিটার আগে সিচলিং থেকে ডান দিকে একটা রাস্তা খাঁড়া উঠে গেছে পাহাড়ের ওপর। সে পথে আট কিলোমিটার গেলেই ধানকার। কিন্তু সিচলিং আমার পথ আগলে দাঁড়াল। চালক বাবাজিকে বললাম,“থোড়া রুকিয়ে ইধর।” চালকের এই জনমানবহীন প্রান্তরে থামার আদৌ যে ইচ্ছে ছিল না তা তার মুখ দেখেই বুঝতে পারছিলাম,কিন্তু সওয়ারি লক্ষ্মী । আর এই ক’দিনে তিনিও বু...

Comments
Post a Comment