নৈঃশব্দের খুব কাছে এলে মানুষ নিজেকে হারায়। আমিও হারালাম। নির্জনতারও তো একটা ভাষা থাকে যে ভাষা বুঝতে গেলে এমন নগ্ন প্রকৃতির কাছে এসে দাঁড়াতে হয়। মিশে যেতে হয় প্রকৃতির শরীরে। যারা পারেন তাঁদের কাছে প্রকৃতি মানে অফুরান রং আর যারা পারেন না, তাঁদের কাছে প্রকৃতি টাচ স্ক্রিনের ওয়াল পেপার হয়েই থেকে যায়। যে বাড়িঘর গুলোকে একটু আগে ছোট ছোট ঝুলনের বাড়িঘরের মতো লাগে, সেগুলোই একটা সময় হাতের নাগালের মধ্যে চলে আসে নিপাট একটি গ্রাম বলতে যা বোঝায় উর্গমও ঠিক তাই ছোট ছোট ঘরবাড়ির পাশে ধানের গোলা। সামনের উঠোনে ক্ষেত থেকে তুলে আনা রামদানা ঝাড়াই বাছাই করে রাখা। এই রামদানা পেষাই করে তৈরি হবে আটা। রোদে শুকোচ্ছে রাজমা। এই উপত্যকায় রাজমার চাষও হয়। বাড়ির চৌহদ্দিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে মুরগি। শিমুল তুলোর মতো তুলতুলে ছানাপোনা গুলো দৌড়োচ্ছে মায়ের পিছন পিছন। তারস্বরে চেঁচাচ্ছে লাল ঝুঁটিওয়ালা মোরগ। একটা ডাকলে পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ভেঙে দূর থেকে আরেকটা ডেকে ওঠে মোরগের ডাক শুনলে কেন জানি না আমার মনের ভেতর একটা ছটফটানি জাগেসেই ছটফটানি আমাকে স্থির থাকতে দেয় না। মন বলে আরও গভীরে যাও। কত গভীর? খাদের অতলে? সেখানে কি আরেক আমার বাস। যে আমার হাত ধরে টানে। সেই টান আমি উপেক্ষা করতে পারি না।

Comments

Popular posts from this blog