Posts

Showing posts from March, 2018
Image
।। জলপরীর গল্প।। ভোরের আলো গায়ে মেখে জলের গভীর থেকে উঠে আসছে এক নারী। সিল্যুট ফ্রেম। অবয়বটুকু দেখা গেলেও সেই নারীর চোখ মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। তার পিছনে পূব আকাশে তখন রঙের খেলা। ভোরের আলো ফুটছে। সিল্যুট সেই নারীর শরীর থেকে চুঁইয়ে পড়ছে জলের রেখা। জলের ওপর দিয়ে দিব্যি সে হেঁটে উঠে আসছে। ভোর বেলা একটা নোনতা হাওয়া বয়। আরব সাগরের জল ছুঁয়ে ভেসে আসে সেই হাওয়া। চোখে মুখে নোনতা আদর লেপে দেয়। পাড়ে আছড়ে পড়ে একটানা জলস্রোত। একটা রিদম তৈরি করে। সেই হাওয়া আর বালুতটে আছড়ে পড়া জলের মুর্ছনার ভেতর কখন যেন সে ঘুমিয়ে পড়েছিল। হটাৎ তার চোখে মুখে জলের ছোঁয়া পেয়ে জেগে উঠল চালচুলোহীন সেই যুবক। চোখ মেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবল, বৃষ্টি এলো নাকি? কই না তো। আকাশ তো বিলকুল পরিষ্কার। নীলের ওপর হাল্কা গোলাপী ও হলুদ আভা ছড়িয়ে রয়েছে। তাহলে চোখে মুখে জলের ছিটে কোত্থেকে এলো? বালির ওপর শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। এবার উঠে বসল। সামনে তাকাতেই দেখল এক নারী। তার দিকেই তাকিয়ে আছে। ভোরের আলোয় যেন আরও রহস্যময়ী লাগছে সেই নারীকে। যুবক ভাবল সে স্বপ্ন দেখছে। সেই রহস্যময়ী নারী এবার যুবকের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, “কি হল? ত...
Image
                                    ।। এক টুকরো ইজরায়েল।।   দোকানের সাইন বোর্ডগুলোর দিকে চোখ পড়তেই ঘাবড়ে গেলাম। এ কোন ভাষা রে বাবা? একটা অক্ষরও তো পড়তে পারছি   না। চারদিকে ভিনদেশি মানুষের ভিড়। এক তরুণির নীল চোখের দিকে চোখ পড়তেই ভাবলাম ঘুমের ঘোরে বিদেশ পাড়ি দিলাম নাকি? কিন্তু না! আমি তো দাঁড়িয়ে আছি ভারতেই। অথচ এখানে হোটেল,রেস্তোরাঁগুলোর সাইন বোর্ডে অদ্ভুত সব শব্দ লেখা। কেমন যেন হিজিবিজি। মানে উদ্ধার করা অসম্ভব। ইধর উধর ঘোরাঘুরি করে জানতে পারলাম এগুলো হিব্রু ভাষায় লেখা। হি ব্রু ভাষায় লেখা সাইনবোর্ড।                              হিব্রু, মানে এ পৃথিবীর প্রাচীনতম ভাষা। যে ভাষায় বাইবেলের ‘ওল্ড টেস্টামেন্ট’ রচিত হয়েছিল বলেই জানি। তিন হাজার বছরের প্রাচীন একটি ভাষা যা কিনা এখন কেবল মাত্র ইজরায়েলিরাই বলে থাকেন। মুখ্খুসুখ্খু মানুষ হিসেবে যতটকু জানি তা হল, হিব্রু ভাষায় বাইশটি বর্ণমালা আছে। আর এই ভাষায় ভাওয়েলের...
Image
                                                       অন্য বসন্ত                            সন্ধ্যাবেলা একটা শিরশিরে হাওয়া দিত। পাগল হাওয়া। সেই উল্টো-পাল্টা হাওয়ায় ভেতর দাঁড়ালে বুঝতে পারতাম ফাগুন কেমন আগুন জ্বালায়। সিলেবাস ভুলে যেতাম। নোট্ ‌ সের খাতায় কতশত আঁকিবুকিতে ফুটে উঠত একটা মুখের আদল। সেই মুখ যাকে দোলের দিন ছোঁয়া যায়। কাঁপা কাঁপা শীর্ণ আঙ্গুলেরা সাহসের ডানায় ভর করত ওই একদিন। ওই একদিনই সমস্ত লক্ষণ রেখা পার করে দিত পাগল হাওয়ার দল। রোদ্দুরে উড়ে বেড়াতো ফাগের গুঁড়ো। দোল মানে তাকে ছোঁওয়ার পাসপোর্ট , ভিসা।   আবির ভরা কাঁপা হাত ছুঁয়ে দিত কাঙ্খিত গাল। কপালে লেপ্টে থাকতো পলাশ আগুন।   ভর ...