Posts

Showing posts from September, 2017
Image
                                ভবিষ্যবদ্রী যোশিমঠ থেকে আটান্ন নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে পনেরো কিলোমিটার গেলেই পড়বে তপোবন। সেখানে নামলে দেখা পাবেন উষ্ণপ্রস্রবনের । জাতীয় সড়কের পাশ দিয়েই একটা পাথুরে খাড়াই পথ উঠে গিয়েছে ওপরের দিকে। ওই রাস্তাটা ধরে তিন কিলোমিটার ট্রেক করে পৌঁছাতে হয় সুভাই গ্রামে। সেখানেই অদ্ভুত এক শান্ত পরিবেশে দাঁড়িয়ে রয়েছে ছোট্ট খাট্টো ভবিষ্যবদ্রীর মন্দির। জৌলুস নেই। তাই পুণ্যার্থীদের ভিড়ও নেই। অথচ এটাই নাকি ভবিষ্যতের বদ্রীনাথ ধাম। যোশিমঠের নৃসিংহ মন্দিরে পূজিত হন বিষ্ণুর অবতার নরসিংহ। তাঁর ডান হাত দুর্বল ও ক্ষীণ। পুরাণ গাঁথা অনুযায়ী, একদিন ওই হাত দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে খসে পড়বে। সেদিন নর ও নারায়ণ পর্বত একসঙ্গে মিশে যাবে। দুই পর্বতের মাঝেই পরম বিষ্ণুতীর্থ বদ্রীনাথ ধামের অবস্থান। ফলে ওই পথ অগম্য হয়ে পড়বে। তখন আর বদ্রীনাথধামে পূজিত হবেন না ভগবান বিষ্ণু। তিনি তখন পূজিত হবেন এই ভবিষ্যবদ্রীতে। পঞ্চবদ্রীর এক বদ্রী ভবিষ্যবদ্রী। মন্দিরে বিগ্রহ বলতে একটা শিলাখণ্ড। তাকেই ভক্তি ভরে পুজো করা হয়। জনশ্...
Image
                                                                           নৃসিংহ মন্দির উত্তরাখণ্ডের সীমান্ত শহর যোশিমঠ। ছোট্ট এই পাহাড়ি শহরে  মন্দিরের সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু এই শহরের মূল আকর্ষন হল নরসিংহের মন্দির । যোশিমঠ বাজার ছাড়িয়ে বাঁদিকে অনেকটা নেমে যাওয়ার পর একটা সমতল মতো জায়গায় এসে দাঁড়ালে বাঁদিকে দেখতে পাবেন নৃসিংহ মন্দির। আর ডানদিকে পরপর বাসুদেব,দুর্গা,অষ্টভূজা,গণেশ ও গৌরিশংকরের মন্দির। নরসিংহ মন্দিরটা বেশ রঙিন। চারদিকে শান্ত পরিবেশ। মন্দিরে বিগ্রহ নরসিংহের মূর্তি। বিষ্ণুর এক অবতার হলেন নরসিংহ। এখানে ভগবান বদ্রী মুক্তিদাতা। স্বয়ং বিষ্ণু ভগবান নরসিংহ রূপে পূজিত হন। পুরাণ কথা অনুযায়ী, নরসিংহের ডান হাত ক্ষীণ ও দুর্বল। ওই হাত একদিন খসে পড়বে। যেদিন ওই ঘটনা ঘটবে সেদিন থেকে বদ্রীনাথধাম অগম্য হয়ে পড়বে। আর কেউ বদ্রীনাথজির দর্শন করতে বদ্রীনাথ ধামে যেতে পারবেন না। নর ও নারায়ণ পর্বতের...
Image
                                                               ভালেই মাতা মন্দির হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায় সালোনি নামে একটা ছোট্ট শহর আছে। সেখান থেকে পঁচিশ কিমি দূরে চামেরা হ্রদরে কাছে একটা পহাড়ের মাথায় ‘ভালেই মাতার’ মন্দির। পুরোটাই চড়াই ভেঙে উঠতে হয়। উচ্চতা প্রায় হাজার চারেক ফুট। এই জায়গাটার নাম ভালেই। সেই থেকেই মন্দিরের নাম ভালেই মাতা। অনেকে একে ভাদরকালিও বলেন। আশ্বিন এবং চৈত্র মাসে এখানে বড় করে পুজো হয়। ভাদরকালি এখানে বাঘের পিঠে সওয়ার। ভালেই এলাকার বাসিন্দাদের কাছে তিনি সাক্ষাৎ জগদ্ধাত্রী। চাম্বার রাজা প্রতাপ সিং ছিলেন ধার্মিক প্রকৃতির মানুষ। তাঁর রাজত্বে বহু মন্দিরের সংস্কার করা হয়েছিল। জনশ্রুতি, একদিন রাতে ঘুমের মধ্যে রাজা স্বপ্নে দেখতে পান এক দেবীকে। সেই দেবী তাঁকে স্বপ্নাদেশ দেন যে, ভালেই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ‘ভ্রাণ’বলে একটি পরিত্যাক্ত জায়গায় তিনি পড়ে আছেন। রাজা যেন ওখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে পু...
Image
                        লক্ষীনারায়ণ মন্দির,চাম্বা। হিমাচলের প্রাচীন মন্দিরগুলোর অন্যতম চাম্বার এই লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির। চাম্বা বাজার ছাড়িয়ে কিছুটা চড়াই ভেঙে পৌঁছাতে হয় এই মন্দিরে। লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরটি মূল মন্দির হলেও এর পাশে আরও ছ’টি মন্দির রয়েছে। শিখর ধর্মী এই মন্দিরগুলি তৈরি করেছিলেন রাজা সাহিল বর্মা। প্রতিটি মন্দিরের গায়ে পাথরে খোদাই করা কারুকাজ দেখে থমকে যেতে হয়। হাজার বছরের প্রাচীন এই মন্দিরগুলোর সামনে দাঁড়ালে ইতিহাস জেগে ওঠে। দশম শতকে মন্দিরগুলি নির্মাণ করেছিলেন রাজা সাহিল বর্মা । কিন্তু মন্দিরে র গর্ভগৃহে বিগ্রহ রূপে বিষ্ণুকে প্রতিষ্ঠা করতে তিনি দুষ্প্রাপ্য মার্বেল পাথরের সন্ধান করছিলেন। রাজা সাহিল বর্মার নয় ছেলে ছিল। রাজা সেই মার্বে লের খোঁজে তাঁর নয় পুত্রকেই পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ছিলেন বিন্ধ্যাচল পর্বতে । পথে দস্যুদের আক্রমণে প্রাণ যায় আট পুত্রের । বড় ছ েলে যুগকারা একমাত্র বেঁচে ফিরেছিলেন।  তিনি সঙ্গে করে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন রাজার সেই কাঙ্খিত দুষ্প্রাপ্য মার্বেল। প্রাচীন এই মন্দিরগুলি বর্তমানে পুরাতত্ব বি...