Posts

Showing posts from 2018
Image
বিল্কেশ্বর কথা বিল্কেশ্বর মহাদেব মন্দির। অনেকেই হয়ত নাম শোনেননি। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই মন্দিরের গুরুত্ব অপরিসীম। আম ট্যুরিস্ট খুব একটা এ দিকে পা বাড়ান না। অথচ হরিদ্বারের এই বিল্কেশ্বর মহাদেব মন্দির বহু প্রাচীন। স্কন্দ পুরাণ ও শিব পুরাণেও এর উল্লেখ পাওয়া যায়। হরিদ্বার স্টেশন থেকে এই মন্দিরের দূরত্ব মেরেকেটে তিন কিলোমিটার। স্টেশন থেকে বেরিয়ে হর কি পৌড়ির দিকে যে মূল রাস্তাটা সোজা চলে গিয়েছে ওটা ধরে চলে আসুন বাল্মীকি চক। এবার বাঁ দিকে ঢুকে পড়ুন। রেল ব্রিজের তলা দিয়ে গিয়ে ফের বাঁদিকে চলতে থাকুন। বিল্ব পর্বতের গায়ে এই মন্দিরের অবস্থান। চারদিকে সবুজের সমারোহ। স্টেশন থেকে অটো বা টোটো নিয়ে চলে আসতে পারেন। বড়জোর একশ দেড়শ টাকা ভাড়া পড়বে। কিন্তু এখানে এলে আপনার মন ভাল হয়ে যাবে। হরিদ্বার শহরের এতো কাছে এমন সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশে এমন একটা শিবের মন্দির আছে এটাই অনেকে জানেন না । পুরাণ বলছে, এখানেই শিবকে স্বামী হিসেবে পেতে মা পার্বতী তপস্যা করেছিলেন। বেল গাছের নিচে বসে উনি তিন হাজার বছর তপস্যা করেছিলেন। পার্বতীর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ওই বেল গাছ থেকেই প্রকট হন স্বয়ং ...
Image
গোটা ভিডিওটি একটি অংশ বিশেষ। পুরি পিকচার আভি বাকি হ্যায়। বন্ধুগণ,আপনারা নিশ্চয়ই এই তেতাল্লিশ সেকেন্ড দৈর্ঘের ছবিটি দেখে ফেলেছেন। কি ভাবছেন? কলকাতার কোনও নামী দামি দু র্গা  পুজোর থিম বাজারে ফাঁস হয়ে গিয়েছে? তাই তো? তাহলে তো মাথায় হাত পুজো উদ্যোক্তাদের। আজ্ঞে না, এই ফমূর্লায় অঙ্ক কষতে যাবেন না। তাহলে মিলবে না। পেজ থ্রি গসিপও নয় যে ইন্ট্রো পড়েই সব বুঝে যাবেন। টেলিভিশনের ডেফার্ড লাইফ নয় যে, অ্যাঙ্কর আর রিপোর্টার মিলে অন স্পট মামলার আগাম রায় শুনিয়ে দেবেন জনতাকে। এই ভিডিও ক্লিপটি বারো হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিথ কেদারনাথ মন্দিরের। ঠিকই পড়ছেন কোনও ভুল নেই। কেদারনাথ মন্দিরই। যা কিনা গাড়োয়াল সহ গোটা ভারতের সব থেকে হাই প্রোফাইল শৈব্যতীর্থ। যেখানে যেতে পারলে মানুষ নিজেকে ধন্য মনে করে। এ অধমের অবশ্য সে সৌভাগ্য আগেই ঘটেছে। শিবজির কৃপা থাকলে হয়ত খুব শিগশির আবার হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেদারনাথে এই মচ্ছব কেন? এ তো লালকেল্লা,আগ্রাফোর্ট,চিতোর ফোর্ট,বৃন্দাবন গার্ডেন কিংবা ভিক্টোরিয়া নয় যে হাসি খুশি মুখি ডান্ডিয়া কালচারে অভ্যস্ত আগমার্কা ট্যুরিস্ট টানতে হবে। থাক না কিছু জায়গা কাঁচা টাকা গ...
Image
।। জলপরীর গল্প।। ভোরের আলো গায়ে মেখে জলের গভীর থেকে উঠে আসছে এক নারী। সিল্যুট ফ্রেম। অবয়বটুকু দেখা গেলেও সেই নারীর চোখ মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। তার পিছনে পূব আকাশে তখন রঙের খেলা। ভোরের আলো ফুটছে। সিল্যুট সেই নারীর শরীর থেকে চুঁইয়ে পড়ছে জলের রেখা। জলের ওপর দিয়ে দিব্যি সে হেঁটে উঠে আসছে। ভোর বেলা একটা নোনতা হাওয়া বয়। আরব সাগরের জল ছুঁয়ে ভেসে আসে সেই হাওয়া। চোখে মুখে নোনতা আদর লেপে দেয়। পাড়ে আছড়ে পড়ে একটানা জলস্রোত। একটা রিদম তৈরি করে। সেই হাওয়া আর বালুতটে আছড়ে পড়া জলের মুর্ছনার ভেতর কখন যেন সে ঘুমিয়ে পড়েছিল। হটাৎ তার চোখে মুখে জলের ছোঁয়া পেয়ে জেগে উঠল চালচুলোহীন সেই যুবক। চোখ মেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবল, বৃষ্টি এলো নাকি? কই না তো। আকাশ তো বিলকুল পরিষ্কার। নীলের ওপর হাল্কা গোলাপী ও হলুদ আভা ছড়িয়ে রয়েছে। তাহলে চোখে মুখে জলের ছিটে কোত্থেকে এলো? বালির ওপর শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। এবার উঠে বসল। সামনে তাকাতেই দেখল এক নারী। তার দিকেই তাকিয়ে আছে। ভোরের আলোয় যেন আরও রহস্যময়ী লাগছে সেই নারীকে। যুবক ভাবল সে স্বপ্ন দেখছে। সেই রহস্যময়ী নারী এবার যুবকের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, “কি হল? ত...
Image
                                    ।। এক টুকরো ইজরায়েল।।   দোকানের সাইন বোর্ডগুলোর দিকে চোখ পড়তেই ঘাবড়ে গেলাম। এ কোন ভাষা রে বাবা? একটা অক্ষরও তো পড়তে পারছি   না। চারদিকে ভিনদেশি মানুষের ভিড়। এক তরুণির নীল চোখের দিকে চোখ পড়তেই ভাবলাম ঘুমের ঘোরে বিদেশ পাড়ি দিলাম নাকি? কিন্তু না! আমি তো দাঁড়িয়ে আছি ভারতেই। অথচ এখানে হোটেল,রেস্তোরাঁগুলোর সাইন বোর্ডে অদ্ভুত সব শব্দ লেখা। কেমন যেন হিজিবিজি। মানে উদ্ধার করা অসম্ভব। ইধর উধর ঘোরাঘুরি করে জানতে পারলাম এগুলো হিব্রু ভাষায় লেখা। হি ব্রু ভাষায় লেখা সাইনবোর্ড।                              হিব্রু, মানে এ পৃথিবীর প্রাচীনতম ভাষা। যে ভাষায় বাইবেলের ‘ওল্ড টেস্টামেন্ট’ রচিত হয়েছিল বলেই জানি। তিন হাজার বছরের প্রাচীন একটি ভাষা যা কিনা এখন কেবল মাত্র ইজরায়েলিরাই বলে থাকেন। মুখ্খুসুখ্খু মানুষ হিসেবে যতটকু জানি তা হল, হিব্রু ভাষায় বাইশটি বর্ণমালা আছে। আর এই ভাষায় ভাওয়েলের...
Image
                                                       অন্য বসন্ত                            সন্ধ্যাবেলা একটা শিরশিরে হাওয়া দিত। পাগল হাওয়া। সেই উল্টো-পাল্টা হাওয়ায় ভেতর দাঁড়ালে বুঝতে পারতাম ফাগুন কেমন আগুন জ্বালায়। সিলেবাস ভুলে যেতাম। নোট্ ‌ সের খাতায় কতশত আঁকিবুকিতে ফুটে উঠত একটা মুখের আদল। সেই মুখ যাকে দোলের দিন ছোঁয়া যায়। কাঁপা কাঁপা শীর্ণ আঙ্গুলেরা সাহসের ডানায় ভর করত ওই একদিন। ওই একদিনই সমস্ত লক্ষণ রেখা পার করে দিত পাগল হাওয়ার দল। রোদ্দুরে উড়ে বেড়াতো ফাগের গুঁড়ো। দোল মানে তাকে ছোঁওয়ার পাসপোর্ট , ভিসা।   আবির ভরা কাঁপা হাত ছুঁয়ে দিত কাঙ্খিত গাল। কপালে লেপ্টে থাকতো পলাশ আগুন।   ভর ...