Posts

Showing posts from August, 2017
Image
                                 প্রেম মন্দির,মথুরা।             ব্রজভূমি, বানর সেনা ও ড্রিমগার্লের স্বপ্নেরা ব্রজ কথার অর্থ গো-পালক। রাখাল শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থানকে তাই বলা হয় ব্রজভূমি। মথুরা নগরীর একসময় নাম ছিল মধুরাপুরী। যাদব রাজাদের রাজধানী ছিল এই মধুরাপুরী। কালক্রমে সেই মধুরাপুরী হয় মথুরা নগরী আর এই মথুরাকেই বলা হয় ক্যাপিটাল অব ব্রজভূমি। আসলে মথুরা আর বৃন্দাবন টুইন সিটি। দূরত্ব মাত্র ১৪ কিলোমিটার। দুই শহরে মন্দিরের সংখ্যা অগুনতি। এহেন ব্রজভূমিতে মন্দিরের সঙ্গে মন্দিরের টক্কর অনিবার্য। এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায় দেখ। তার মধ্যেও বাঁকে বিহারি,মদনমোহন ও লিঙ্গরাজ মন্দিরের খ্যাতি বেশি। এই মন্দিরগুলো রীতিমত ক্রাউড পুলার। কিন্তু ইদানিং সবাইকে টেক্কা দিয়ে এক নম্বর কাউড পুলারের তকমাটা ছিনিয়ে নিয়েছে ‘প্রেম মন্দির’।                                            ...
Image
                        আদি ও অকৃত্রিম প্রেমিক পুরুষটির জন্ম হয়েছিল এখানেই। এই মথুরাতে। তাঁর কাছ থেকেই পরকীয়ার পাঠ নিয়েছেন সবাই। পরকীয়াকে এক নতুন আঙ্গিকে গোটা দুনিয়ার সামনে পেশ করেছিলেন তিনি। যদিও তাঁর লীলাক্ষেত্র ছিল বৃন্দাবন। এই মথুরা শহর থেকে একটা অটো নিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় বৃন্দাবনে। যিনি যোল হাজার গোপিণীর নয়নের মনি তাঁকেই কিনা জন্ম নিতে হয়েছিল কারাগারে। তাঁর জন্মস্থানে আজ পেল্লাই মন্দির। আর সেই মন্দির চত্বর জুড়ে নিরাপত্তার এমন কড়াকড়ি যে, ভেতরে ঢুকতে গেলে এক অর্থে প্রায় জামা কাপড় খুলে পড়ার জোগাড়। রীতিমত খানা-তল্লাশি চলে। গায়ে শুধু পোশাকটুকু থাকে বাকি সবকিছু ক্লক রুমে জমা দিয়ে ঢুকতে হয়। ক্যামেরা নিয়ে ভেতরে ঢোকার তো প্রশ্নই নেই। রাস্তায়  দাঁড়িয়ে বাইরে থেকে ছবি তুললেও কারবাইন ঝুলিয়ে ছুটে আসে উত্তর প্রদেশ পুলিশের কর্মীরা। মথুরার রাজ পরিবার যাদব কূলপতি বসুদেব ও দেবকির অষ্টম পুত্র জন্মে ছিলেন শ্রাবণের অষ্টমী তিথির এক অন্ধকার রাতে। তাই কৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমী হিসেবে পালন করা হয়। কৃষ্ণ জন্মালেন মথুরায়। বেড়ে উঠরেন গোকূ...

রাখি পুরাণ

Image
“রক্ষাকবচ” শব্দটা অনেক সময়ই আমরা বলে ফেলি। কিন্ত এই রক্ষাকবচের ভেতরেই কি লুকিয়ে আছে রাখির জন্ম? রক্ষাকবচ থেকে রক্ষাবন্ধন। যা কিনা বাঙালিদের কাছে হয়ে ওঠে রাখিবন্ধন। যদিও রাখিবন্ধন সেই অর্থে বাঙালি সংস্কৃতির প্রাচীন উৎসব নয়। বরং বলা যায় এই উৎসব উত্তর ভারত বা উত্তর পশ্চিম ভারতেই জনপ্রিয় ছিল। কেউ কেউ বলেন আর্যদের প্রভাবেই এই বঙ্গে রক্ষাবন্ধন প্রচলিত হতে শুরু করে। রাখি মানে এক পবিত্র বন্ধন। সে ভাই বোনের সম্পর্ক হোক বা বন্ধুত্বের।  অথবা ভেদাভেদ মুছে ফেলার। আসলে তো রাখি মঙ্গল কামনায় এক পবিত্র বন্ধনের কথা বলে। শিশু পুত্র কৃষ্ণের মঙ্গল কামনায় মা যশোদা রাখি পূর্ণিমার দিন পুত্রের হাতে রাখি বেঁধে দিতেন। পুরাণেও কিন্তু এই রাখির উল্লেখ আছে। তবে ভিন্ন ভাবে। স্বর্গে তখন অসুররাজ বলির দাপট। দেবতারা কোণঠাসা। দেবরাজ ইন্দ্র তাঁর সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়াই করেও বলির কাছে পরাজিত এবং অপমানিত। ইন্দ্রের এই অপদস্ত হওয়াটা মোটেই মেনে নিতে পারেননি ইন্দ্রের স্ত্রী ইন্দ্রানী। যদিও তাঁর নাম ছিল শচী। দেবরাজ ইন্দ্রের শচীকে বিয়ে করার পিছনেও পুরাণে দু’টি কাহিনি অছে। একটি মত হল,শচীর রূপ ও শরীরী সৌন্দর্যের আবেদনে মুগ্ধ ...
Image
জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসিতে পা দিলে প্রাচীন গির্জাগুলো না দেখে যেমন থাকা যায় না। ঠিক তেমনই জর্জিয়ান সুন্দরীদের প্রেমে না পড়েও নিস্তার নেই। ওই নীল চোখের তারায় তারায় পথ হারিয়েছি। মেট্রোতে চড়ে এক স্টেশনে নামার বদলে আরেক স্টেশনে গিয়ে নেমেছি। আভলাবাড়ির (রাস্তার নাম,মোট্রোস্টেশনও আছে) ফুটপাথে নেশাগ্রস্তের মতো চরকি কেটেছি। দলবেঁধে পরীর দল কোথা থেকে আসে আর কোথায় ভেসে যায় কে জানে? এ যেন শ্রাবণের মেঘ। ভেসে যায় উড়ে যায় আমাকে একলা রেখে। আপনি যদি মহিলা হয়ে থাকেন তাহলে বেঁচে গেলেন এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। এখানকার রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ায় হাজার হাজার সলমন,আমির,শাহরুখ, হৃত্বিক রোশন থেকে রণবীর কাপূররা। ফলে হৃদয়ে ঢেউ উঠতে বাধ্য। প্রেমে পড়তে পড়তে ক্লান্ত হলে একটা দাওয়াই আছে আর তা হল জর্জিয়ান ওয়াইন। এদেশে এসে ওই তরলটির স্বাদ না নিলে গোটা সফরটাই ব্যর্থ। রুস্তাভেলিতে প্রচুর রেস্তোরাঁ ও পানশালা রয়েছে। ফলে ঢুকে পড়লেই হল। ওয়াইনের সম্ভার দেখলে ঘুম ছুটে যাবে। এমনকি দিনভর ব্যর্থ প্রেমের রচিত কাহিনিও ভুলে মেরে দেবেন। ভাবছেন নেশা হয়ে গেছে। তাই হুঁশ নেই। বিলকুল নয়। এক লিটার ওয়াইন খেলেও তা হবে না। কারণ এই হাজার রকম...
Image
নৈঃশব্দের খুব কাছে এলে মানুষ নিজেকে হারায়। আমিও হারালাম। নির্জনতারও তো একটা ভাষা থাকে যে ভাষা বুঝতে গেলে এমন নগ্ন প্রকৃতির কাছে এসে দাঁড়াতে হয়। মিশে যেতে হয় প্রকৃতির শরীরে। যারা পারেন তাঁদের কাছে প্রকৃতি মানে অফুরান রং । আর যারা পারেন না , তাঁদের কাছে প্রকৃতি টাচ স্ক্রিনের ওয়াল পেপার হয়েই থেকে যায়। যে বাড়িঘর গুলোকে একটু আগে ছোট ছোট ঝুলনের বাড়িঘরের মতো লাগে, সেগুলোই একটা সময় হাতের নাগালের মধ্যে চলে আসে । নিপাট একটি গ্রাম বলতে যা বোঝায় উর্গমও ঠিক তাই । ছোট ছোট ঘরবাড়ির পাশে ধানের গোলা। সামনের উঠোনে ক্ষেত থেকে তুলে আনা রামদানা ঝাড়াই বাছাই করে রাখা। এই রামদানা পেষাই করে তৈরি হবে আটা। রোদে শুকোচ্ছে রাজমা। এই উপত্যকায় রাজমার চাষও হয়। বাড়ির চৌহদ্দিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে মুরগি। শিমুল তুলোর মতো তুলতুলে ছানাপোনা গুলো দৌড়োচ্ছে মায়ের পিছন পিছন। তারস্বরে চেঁচাচ্ছে লাল ঝুঁটিওয়ালা মোরগ। একটা ডাকলে পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ভেঙে দূর থেকে আরেকটা ডেকে ওঠে । মোরগের ডাক শুনলে ...