Posts

Showing posts from February, 2018
Image
                         মখমলি বুগিয়ালে ডানা মেলে রোদ    তুঙ্গনাথের পথে। সবুজ বুগিয়ালে জুড়ে ডানা মেলে থাকে রোদ। এ মন সবুজ বুগিয়াল আর এমন ডানা মেলা রোদ দেখলে মনটা হু হু করে ওঠে। মনের ডানায় হাওয়া মেলে উড়ি। ঝাঁপ দিতে ইচ্ছে করে। খাদের ধারে ঈষৎ ঝুঁকে থাকা ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। রডোডেনড্রন গাছগুলো দু ' হাত বাড়িয়ে ডাকছিল। হঠাৎই কোথা থেকে উড়ে এসেছিল দলছুট মেঘেরা। তাদের পেলব ছায়া বুগিয়াল জুড়ে কাঁচা হলুদ রোদের সাথে লুকোচুরি খেলে বেড়াচ্ছিল। আমার ওমন ঝুঁকে থাকা ভঙ্গি দেখে সামান্য ঘাবড়ে গিয়েছিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ স্কলার দিব্যা। সে নির্ঘাত ভেবে বসেছিল , ইয়ে পাগল আদমী সুইসাইড করার প্ল্যান ভাঁজছে। তাই দ্রুত পিছন থেকে আমাকে টেনে ধরে ধমকে উঠে বলেছিল ," মরনা হ্যায় ক্যায়া আপকো ? আগে খাই হ্যায় , দিখ নেহি রহা হ্যায়! " ডাকাবুকো দিব্যা একাই বেড়িয়েছে তুঙ্গনাথ দর্শনে। স্মার্ট। ঝকঝকে। পিঠে রুকস্যাক। ছিপছিপে তরুণী দিব্যার মাথায় ক্যাপ। চোখে সানগ্লাস। কিছুক্ষণ আগে পথের ধারে এক চটিতে পাথরের ওপর বসে চা খাচ্ছিলাম। সে...
Image
।।সত্য যুগের প্রেম গাঁথা।। রাজা হিমাবত তাঁর মেয়ের বিয়ে নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। মেয়ের মতিগতির ঠিক নেই। বিয়ের কথা বললেই মেয়ের সেই এক কথা- “শিবকে তিনি মন থেকে স্বামী হিসেবে মেনে নিয়েছেন। তাঁর পক্ষে আর অন্য কোনও পুরুষকে বিয়ে করা সম্ভব নয়।” বাবা হিসেবে হিমাবত মেয়েকে অনেক বুঝিয়েছেন যে, “এ সম্ভব নয়। তুমি অন্য কোনও পাত্রের কথা বলো আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব সেই পাত্রের সঙ্গে তোমার বিয়ে দিতে।” রাজকন্যার সেই এক গোঁ। “বিয়ে করব তো শিবকেই করব, নচেৎ আজীবন কুমারী থাকব।” জোরাজুরি করলে মন্দাকিনীর জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার হুমকিও তিনি দিয়ে রেখেছেন বাবাকে। হিমাবত জানেন মেয়ে পার্বতী গোঁ ধরলেও এ বিয়ে সম্ভব নয়। সদ্য সতীকে হারিয়ে শিবের তখন পাগলপারা দশা। ব্রহ্মা, বিষ্ণুও শিবকে কিছু বোঝাতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। হিমাবত জানেন, এই পরস্থিতিতে   তাঁর মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব নিয়ে গিয়ে দাঁড়ালে শিবের রোষানলে পড়তে হবে তাঁকে। মেয়ে পার্বতীর ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন তিনি। রাজধানী ত্রিযুগীনারায়ণে রয়েছে বিষ্ণুর মন্দির। তিনি সেই মন্দিরের সামনে উদাস ভাবে পায়চারি করতে থাকলেন। রাজা হলেও তিনি তো পিতা। মেয়ের প্রেম ন...
Image
                        ।। নির্জন এক হ্রদের খোঁজে।। “অ্যাডভেঞ্চার ইজ আউট দেয়ার।” গেস্ট হাউজ থেকে বের হয়ে বাইরে আসতেই ধানকার মনাস্ট্রির চত্বরে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলেছিলেন এক বৌদ্ধ লামা। ওনার কাছ থেকে জেনে   নিচ্ছিলাম ধানকার লেক যাওয়ার হদিশ। ধানকার মনাস্ট্রির ঠিক উল্টো দিকেই যে ন্যাড়া পাহাড়টা উঠে গিয়েছে তার ওপর দিয়েই পায়ে চলা পথ একটা দেখা যাচ্ছিল বটে। কিন্তু ওই খাড়া রুক্ষ পথ পেরিয়ে সেই হ্রদের কাছে পৌঁছোতে পারব কিনা বুঝতে পারছিলাম না। বৌদ্ধ লামা বোধহয় আমার মনের কথা পড়ে ফেলেছিলেন। উৎসাহ দেওয়ার ভঙ্গিতে বলে উঠেছিলেন,“চলে যান। অসুবিধা হবে না। তবে ধীরে চড়াই ভাঙবেন। সামনের পাহাড়টা টপকে বাঁ দিকে সোজা হাঁটতে থাকবেন।     গতকাল ধানকার এসে পৌঁছানোর পর মনাস্ট্রির গেস্ট-হাউজে থেকে গিয়েছিলাম। ইচ্ছে ছিল এ যাত্রায় ধানকার লেকটা ট্রেক করে যাব। একটা সময় নোনোজ রাজারা রাজত্ব করতেন এই রুক্ষ প্রান্তরে। তারাই বানিয়েছিলেন ধানকার দুর্গ। সে গল্প আগেই শুনিয়েছি। নোনোজ রাজাদের রাজত্বের সময় ধানকারের বাসিন্দাদের জলের এক মাত্র সোর্স ছিল...
Image
স্বর্গের অপসরাদের স্নানপর্ব লুকিয়ে দেখাটা কি অন্যায়?  অবশ্যই অন্যায়। কারুর ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে পড়াটা অন্যায় তো বটেই। একেবারে স্নানঘরে উঁকি!  একি কথা? সে স্নানঘর খোলা আকাশের নীচে হ্রদ হতেই পারে। তা বলে অপসরাদের স্নানের দৃশ্য লুকিযে লুকিয়ে দেখতে হবে? এ তো ঘোরতর গর্হিত কাজ। আর ন্যায়-অন্যায়ের উর্ধে কেউ নয়। রাজা-রানি-উজির কেউ নয়। তা সেই খোলা আকাশের নীচে ঘন নীল হ্রদের জলে অপসরাদের স্নানপর্ব লুকিয়ে দেখার ফল কী হয়েছিল, সেই গল্পটাই আজ ছোট্ট করে বলব।  তবে, তার আগে বলি, সংস্কৃত শব্দ ‘অপ’ যার বাংলা করলে দাঁড়ায় জল।  সেই জল থেকে এই নারীদের  জন্ম বলে বলা হয়  অপসরা। পুরাণ অনুযায়ী এরা ছিলেন ইন্দ্রের সভানর্তকী। ঋগ্বেদ অনুযায়ী অপসরা হলেন গন্ধর্বের স্ত্রী। যাইহোক, সেই আলোচনায় ঢুকছি না। বরং রাজা রানির গল্পটায় আসি।                                 গুরুদোংমার হ্রদ। উত্তর সিকিমের ভারত-চিন সীমান্ত ঘেষা এলাকায় প্রায় আঠারো হাজার ফুট উচ্চতায় একটি পবিত্র হ্রদ আছে। তার নাম গুরুদোংমার। এই হ্...