ভবিষ্যবদ্রী
যোশিমঠ থেকে আটান্ন নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে পনেরো কিলোমিটার গেলেই পড়বে তপোবন। সেখানে নামলে দেখা পাবেন উষ্ণপ্রস্রবনেরজাতীয় সড়কের পাশ দিয়েই একটা পাথুরে খাড়াই পথ উঠে গিয়েছে ওপরের দিকে। ওই রাস্তাটা ধরে তিন কিলোমিটার ট্রেক করে পৌঁছাতে হয় সুভাই গ্রামে। সেখানেই অদ্ভুত এক শান্ত পরিবেশে দাঁড়িয়ে রয়েছে ছোট্ট খাট্টো ভবিষ্যবদ্রীর মন্দির। জৌলুস নেই। তাই পুণ্যার্থীদের ভিড়ও নেই। অথচ এটাই নাকি ভবিষ্যতের বদ্রীনাথ ধাম। যোশিমঠের নৃসিংহ মন্দিরে পূজিত হন বিষ্ণুর অবতার নরসিংহ। তাঁর ডান হাত দুর্বল ও ক্ষীণ। পুরাণ গাঁথা অনুযায়ী, একদিন ওই হাত দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে খসে পড়বে। সেদিন নর ও নারায়ণ পর্বত একসঙ্গে মিশে যাবে। দুই পর্বতের মাঝেই পরম বিষ্ণুতীর্থ বদ্রীনাথ ধামের অবস্থান। ফলে ওই পথ অগম্য হয়ে পড়বে। তখন আর বদ্রীনাথধামে পূজিত হবেন না ভগবান বিষ্ণু। তিনি তখন পূজিত হবেন এই ভবিষ্যবদ্রীতে। পঞ্চবদ্রীর এক বদ্রী ভবিষ্যবদ্রী। মন্দিরে বিগ্রহ বলতে একটা শিলাখণ্ড। তাকেই ভক্তি ভরে পুজো করা হয়। জনশ্রুতি,এই শিলাখণ্ড নাকি একটু একটু করে তার আকৃতি পাল্টাচ্ছে। এখানেই একদিন প্রকট হবেন ভগবান বিষ্ণু। যোশিমঠের নৃসিংহ মন্দিরের নরসিংহ মূর্তির দুর্বল ডানহাত খসে পড়বে আর সেই সময় নর ও নারায়ণ পর্বত মিশে গিয়ে আড়াল করে দেবে বদ্রীনাথ ধামকেতখনই এই ভবিষ্যবদ্রীতে ওই শিলাখণ্ডে ভগবান বিষ্ণু প্রকট হবেন। পূজিত হবেন এখানেই। কলিকালেরও শেষ হবে সেদিন। সূচিত হবে নয়া যুগের। সেই জন্যই এই মন্দিরকে ভবিষ্যবদ্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 

Comments

Popular posts from this blog