ভালেই মাতা মন্দির
হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায় সালোনি নামে একটা ছোট্ট শহর আছে। সেখান থেকে পঁচিশ কিমি দূরে চামেরা হ্রদরে কাছে একটা পহাড়ের মাথায় ‘ভালেই মাতার’ মন্দির। পুরোটাই চড়াই ভেঙে উঠতে হয়। উচ্চতা প্রায় হাজার চারেক ফুট। এই জায়গাটার নাম ভালেই। সেই থেকেই মন্দিরের নাম ভালেই মাতা। অনেকে একে ভাদরকালিও বলেন। আশ্বিন এবং চৈত্র মাসে এখানে বড় করে পুজো হয়। ভাদরকালি এখানে বাঘের পিঠে সওয়ার। ভালেই এলাকার বাসিন্দাদের কাছে তিনি সাক্ষাৎ জগদ্ধাত্রী।

চাম্বার রাজা প্রতাপ সিং ছিলেন ধার্মিক প্রকৃতির মানুষ। তাঁর রাজত্বে বহু মন্দিরের সংস্কার করা হয়েছিল। জনশ্রুতি, একদিন রাতে ঘুমের মধ্যে রাজা স্বপ্নে দেখতে পান এক দেবীকে। সেই দেবী তাঁকে স্বপ্নাদেশ দেন যে, ভালেই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ‘ভ্রাণ’বলে একটি পরিত্যাক্ত জায়গায় তিনি পড়ে আছেন। রাজা যেন ওখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে পুজোর ব্যবস্থা করেন। পরদিন রাজা তাঁর পেয়াদা ও পারিষদদের সঙ্গে করে যান সেই জায়গায়। এবং সত্যি খুঁজে পান দেবীর মূর্তিকে। ভক্তি ভরে সেই দেবীর মূর্তিকে পালকি করে বয়ে নিয়ে যেতে নির্দেশ দেন রাজা। রাজা প্রতাপ সিং এর ইচ্ছে ছিল রাজধানী চাম্বা শহরে মন্দির নির্মাণ করে সেখানে তিনি দেবীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করবেন। পাহাড়ি পথে চলার কষ্ট লাঘব করতে রাজা ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গোরা ভালেই বলে একটা জায়গায় এসে একটু বিশ্রাম নেন। পালকি বাহকেরাও ক্লান্তিতে নামিয়ে রাখেন দেবীকে। খানিক্ষণ বিশ্রামের পর ফের পথ চলা শুরু করতে যেতেই পালকি বাহকেরা অবাক। পালকি আর উঠছে না। জোয়ান পালকিবাহকেরা শত চেষ্টা করেও ওখান থেকে নড়াতে পারলেন না দেবীকে। তখন তাঁরা ভয়ে ভয়ে গেলেন রাজার কাছে। রাজা সব শুনে পড়লেন চিন্তায়। ভাবলেন দেবী কি তাহলে কোনো কারণে তাঁর ওপর রুষ্ট হয়েছেন? তিনি পরামর্শ করলেন তাঁর পারিষদদের সঙ্গে। কিলোড় গ্রাম থেকে ডেকে আনা হল এক প্রবীণ ব্রাহ্মনকে। তিনি এসে পুজো করলেন দেবীকে। রাজাকে জানালেন দেবী চাম্বায় নয়, এখানে এই ভালেই পাহাড়ের মাথাতেই প্রতিষ্ঠিত হতে চান। রাজা তখন এখানেই গড়ে দেন ভালেই মাতার মন্দির ।

Comments

Popular posts from this blog