বিল্কেশ্বর কথা

বিল্কেশ্বর মহাদেব মন্দির। অনেকেই হয়ত নাম শোনেননি। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই মন্দিরের গুরুত্ব অপরিসীম। আম ট্যুরিস্ট খুব একটা এ দিকে পা বাড়ান না। অথচ হরিদ্বারের এই বিল্কেশ্বর মহাদেব মন্দির বহু প্রাচীন। স্কন্দ পুরাণ ও শিব পুরাণেও এর উল্লেখ পাওয়া যায়।





হরিদ্বার স্টেশন থেকে এই মন্দিরের দূরত্ব মেরেকেটে তিন কিলোমিটার। স্টেশন থেকে বেরিয়ে হর কি পৌড়ির দিকে যে মূল রাস্তাটা সোজা চলে গিয়েছে ওটা ধরে চলে আসুন বাল্মীকি চক। এবার বাঁ দিকে ঢুকে পড়ুন। রেল ব্রিজের তলা দিয়ে গিয়ে ফের বাঁদিকে চলতে থাকুন। বিল্ব পর্বতের গায়ে এই মন্দিরের অবস্থান। চারদিকে সবুজের সমারোহ। স্টেশন থেকে অটো বা টোটো নিয়ে চলে আসতে পারেন। বড়জোর একশ দেড়শ টাকা ভাড়া পড়বে। কিন্তু এখানে এলে আপনার মন ভাল হয়ে যাবে। হরিদ্বার শহরের এতো কাছে এমন সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশে এমন একটা শিবের মন্দির আছে এটাই অনেকে জানেন না



পুরাণ বলছে, এখানেই শিবকে স্বামী হিসেবে পেতে মা পার্বতী তপস্যা করেছিলেন। বেল গাছের নিচে বসে উনি তিন হাজার বছর তপস্যা করেছিলেন। পার্বতীর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ওই বেল গাছ থেকেই প্রকট হন স্বয়ং মহাদেব তবে এক ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে পার্বতী মহাদেবকে কতটা ভালবাসেন তার পরীক্ষা নিতে ব্রাহ্মণের ছদ্দবেশে থাকা মহাদেব শিবের নামে তেড়ে নিন্দা করতে শুরু করেন পার্বতী তখন ব্রাহ্মণবেশী শিবকে বলেন,তিনি মনে মনে মহাদেবকেই তাঁর স্বামী হিসেবে গ্রহণ করেছেন ফলে তাঁর পক্ষে শিবের নামে নিন্দা শোনা পাপ কিন্তু ওই ব্রাহ্মণরূপী শিবও থামবার পাত্র নন তিনি ক্রমাগত শিবের নামে গালমন্দ করে যেতে থাকেন একটা সময় পার্বতীর কাছে তা অসহ্য ঠেকে কিন্তু ব্রাহ্মণের বিরুদ্ধে রুষ্ট হলে সেই ব্রাহ্মণ তাঁকে অভিশাপ দিতে পারেন ফলে তাঁর এতো বছরের তপস্যা নষ্ট হবে তাই তিনি ওই ব্রাহ্মণরূপী শিবকে মুখে কিছু না বলে ওই বেল গাছের নিচ থেকে উঠে গিয়ে কিছুটা দূরে এক কুণ্ডের সামনে ফের তপস্যায় বসেন কিন্তু ব্রাহ্মণরূপী শিব পার্বতীর পিছু ধাওয়া করেনসেখানে গিয়েও শিবের নামে বদনাম করতে থাকেন। এতো কিছু করেও যখন পার্বতীর মুখ থেকে শিবের বিরুদ্ধে কিছু বলানো গেল না তখন শিব তাঁর স্বরূপ ধারণ করে পার্বতীকে দর্শন দিলেন। এবং পার্বতীর তপস্যায় খুশি হয়ে তাঁকে বরদান করলেন।  



এখানে মূল মন্দিরটি শিবের হলেও পাশাপাশি রয়েছে মা পার্বতী,গণেশ এবং হনুমানের মন্দির শিবকে এখানে গঙ্গার জলে স্নান করিয়ে বেলপাতা দিয়ে পুজো করা হয়। আর শিবের মন্দিরের সামনে পুজো পান নন্দীও।

হরিদ্বার শহরের ভিড়বার থেকে সামান্য দূরে বিল্ব পাহাড়ে গায়ে এই শিব মন্দিরের চারপাশের পরিবেশ বেশ মনোরম। বেশ একটা আরণ্যক পরিবেশ রয়েছে চারদিকে। এখানে এলে অস্থির মনও শান্ত হবে। তাই এই অজানা ও স্বল্প পরিচিত মন্দিরটির সন্ধান দিলাম আপনাদের। এখানে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে ফুল-প্রসাদ কেনা, প্রণামী বা দক্ষিণা দেওয়া নিয়ে কোনও রকম জোর জুলুম করা হয় না। নেই পান্ডাদের উৎপাত। খোলা মনে পুজো দিতে বা ঘুরে বেড়াতে অসুবিধা নেই।


বিল্কেশ্বর মহাদেব মন্দির নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি দেখতে নিচের ভিডিওটি ক্লিক করুন।






Comments

Popular posts from this blog