গোটা ভিডিওটি একটি অংশ বিশেষ। পুরি পিকচার আভি
বাকি হ্যায়। বন্ধুগণ,আপনারা নিশ্চয়ই এই তেতাল্লিশ সেকেন্ড দৈর্ঘের ছবিটি দেখে
ফেলেছেন। কি ভাবছেন? কলকাতার কোনও নামী দামি দুর্গা পুজোর থিম বাজারে ফাঁস হয়ে
গিয়েছে? তাই তো? তাহলে তো মাথায় হাত পুজো উদ্যোক্তাদের।
আজ্ঞে না, এই ফমূর্লায় অঙ্ক কষতে যাবেন না।
তাহলে মিলবে না। পেজ থ্রি গসিপও নয় যে ইন্ট্রো পড়েই সব বুঝে যাবেন। টেলিভিশনের
ডেফার্ড লাইফ নয় যে, অ্যাঙ্কর আর রিপোর্টার মিলে অন স্পট মামলার আগাম রায় শুনিয়ে
দেবেন জনতাকে।
এই ভিডিও ক্লিপটি বারো হাজার ফুট উচ্চতায়
অবস্থিথ কেদারনাথ মন্দিরের। ঠিকই পড়ছেন কোনও ভুল নেই। কেদারনাথ মন্দিরই। যা কিনা
গাড়োয়াল সহ গোটা ভারতের সব থেকে হাই প্রোফাইল শৈব্যতীর্থ। যেখানে যেতে পারলে মানুষ
নিজেকে ধন্য মনে করে। এ অধমের অবশ্য সে সৌভাগ্য আগেই ঘটেছে। শিবজির কৃপা থাকলে হয়ত
খুব শিগশির আবার হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেদারনাথে এই মচ্ছব কেন? এ তো
লালকেল্লা,আগ্রাফোর্ট,চিতোর ফোর্ট,বৃন্দাবন গার্ডেন কিংবা ভিক্টোরিয়া নয় যে হাসি
খুশি মুখি ডান্ডিয়া কালচারে অভ্যস্ত আগমার্কা ট্যুরিস্ট টানতে হবে। থাক না কিছু
জায়গা কাঁচা টাকা গোনার বাইরে।
ও এখনও তো বলিনি, আজ থেকেই কেদারে শুরু হল এই
লেজার শো। যার পোশাকি নাম “লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো অ্যাট কেদারনাথ টেম্পল”।
কেদারনাথের বাজারদর বাড়াতে এটাই এখন নতুন ক্যাচলাইন। এবং পর্যটক বা পুণ্যার্থী
টানার ক্ষেত্রে এই শো কেদার অভিযানকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা সরকার ও মন্দির
কমিটির কর্তাদের। এ বছরের মতো মন্দিরের দরজা খুলে গিয়েছে ২৯ এপ্রিল। এবার
দর্শনার্থী টানতে চালু হয়ে গেল লেজার শো।
মজার বিষয় হল কেদারনাথ যাওয়াটা একটু কষ্টকর।
সেই গৌরিকুণ্ড থেকে নতুন পথে প্রায় আঠারো কিলোমিটার টানা চড়াই। লিংচোলি থেকে আর পা
চলতে চায় না। তবু এক শেণির মানুষ কেদার যান। কেন? শুধুই কি ভক্তি? হ্যাঁ,ভক্তির
টানে অসংখ্য মানুষ যান ঠিকই। আবার এটাও ঠিক প্রকৃতির ওই রূপ দেখতেও বহু মানুষ ছুটে
যান কেদারে। অনেকে যান ট্রেকিং-এর আনন্দ নিতে। যাঁরা ভাবছেন ট্রেকিং-এর আবার আনন্দ
কী? ওতে তো কষ্টই কষ্ট লেখা আছে কপালে। তাঁদের জন্য বলি, ঠিকই ধরেছেন, কষ্টই।
বোকার মতো কিছু পাগল পাহাড়ি পথে পিঠে রুকস্যাক চাপিয়ে হাঁটতে থাকে। অক্সিজেনের
অভাবে তাঁদের জিভ বেরিয়ে যায়। কিন্তু ওতেই এদের আনন্দ। ঠিক যেমন হোটেলে পার্টি করে
খাবার সাজিয়ে হুল্লোড়ের ছবি পোস্ট করে এক শ্রেণির মানুষ আনন্দ খুঁজে পান। তেমনই।
শুধু আঙ্গিক আর উদ্দ্যেশ্যটা আলাদা।
এখন মুশকিল হচ্ছে আম জনতা কেদার গেলে তো এন্টারটেইনমেন্ট খুঁজবেই। মানে বেড়ানোর পাশাপশি বিনোদন এবং ফুল মস্তির প্যাকেজ। ফলে কেদারকে আমজনতার ধরা ছোঁয়ার মধ্যে এনে দাও। যাঁরা হাঁটতে পারেন না তাঁদের জন্য ঘোড়া তো ছিলই। ফাটা থেকে কেদারনাথ হেলিকপ্টার সার্ভিস চালু হয়ে গিয়েছিল অনেকদিন। এখানে ‘আমজনতা’ মানে গরিব আদমি নয়। আমজনতা মানে যাঁরা পকেটে তাড়া তাড়া গান্ধিজি নিয়ে ঘোরেন তাঁরা। ফাটা থেকে সাত-আট হাজার টাকায় রাউন্ড ট্রিপ। ফলে ক্রমশ কেদার সহজলভ্য হচ্ছে। ভিড় বাড়ছে। বাড়ছে বাণিজ্য। এক ঢিলে দুই পাখি মারার সুযোগ কে আর ছাড়ে? এক বেলার মধ্যে কেদার দর্শনও হল আবার আকাশ পথে ডানা মেলাও হল। আর যারা কেদারে থাকবেন তাঁদের জন্য চালু হল লেজার শো। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আরতির পর শুরু হবে এই শো। প্রোজেক্টর দিয়ে কেদার মন্দিরের দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে শিবের মাহাত্ম্য। সঙ্গে ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম। গম গম করছে মন্দির চত্ত্বর।পঁচিশ মিনিটের শো। হাততালি, সিটি, পয়সা উসুল। হিট কেদার বেড়ানো। ফেসবুকে পোস্ট #ট্যাগ “ওয়াচিং লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো
@ কেদার।”
দেশের মধ্যে দক্ষিণের তিরুপতি সবথেকে ধনী মন্দির। উত্তরে
বৃন্দাবনের বাঁকে বিহারি মন্দিরও ভীষণ জনপ্রিয় পুণ্যার্থীদের কাছে। আবার বৈভব ও নির্মাণ
শৈলির ছটায় অনেক এগিয়ে মথুরার প্রেম মন্দির। পুরীর জগন্নাথ ও গুয়াহাটির কাছে কামাখ্যা
মন্দিরেরও ব্যাপক কদর। এছাড়াও আরও অসংখ্য মন্দির আছে। জনপ্রিয়তার নিরিখে যে গুলোর স্ট্যাটাস
হাই। এই মন্দিরগুলোতে পৌঁছোতে গেলে দিনভর চড়াই ভাঙতে হয় না।
মোটামুটি গাড়ি করে যাওয়া য়ায়। তাই সেই মন্দিরগুলোয় স্বাভাবিক কারণেই ভিড়ও বেশি। মন্দির
হিসেবে তেমন একটা দৃষ্টিনন্দন নয় কেদারনাথ। পঞ্চকেদারের পাঁচটি মন্দিরের লোকেশন
দুর্দান্ত হলেও মন্দিরগুলোর নির্মাণশৈলিতে বৈভব নেই। মানে গোদা বাংলায় জৌলুস তেমন
একটা নেই। কিন্তু এই মন্দিরগুলোতে পুণ্যার্থীদের পাশাপাশি প্রকৃতি প্রেমিকদেরও ভিড়
লেগেই থাকে। এবার কেদারের মন্দিরে লেজার শো শুরু হওয়ায় কপ্টার সার্ভিসের দৌলতে কথায়
কথায় “ফ্যান্টাবুলাস” বলিয়েদের ভিড় বাড়বে। তাতে আখেরে কীসের লাভ হবে?
কিছু জায়গা সবার ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থাকা
উচিত। তবেই সেই জায়গার গুরুত্বকে মর্যাদা দেওয়া হয়। হিমালয় কিন্ত ভিড় পছন্দ করে
না। তাঁর নিজের পাড়ায় সভ্যতার দাপাদাপি একদম না পছন্দ খোদ শিবজির। যাঁরা এ লেখা
পড়তে পড়তে আমাকে তেড়ে খিস্তি করছেন তাঁদের জন্য বলি, খিস্তি করা আপনার গণতান্ত্রিক
অধিকার। শুধু মনে রাখবেন ২০১৩ সালের ১৩ই জুন মানুষের অহংকারের জবাব কিন্তু দিয়েছিল
প্রকৃতি। যার ভয়াবহ স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন গোটা উত্তরাখণ্ডের মানুষ। আর সেটাও ঘটেছিল এই কেদারেই।
ভিডিওটি
ক্লিপটি সংগৃহীত।

ekdom thik kotha chinu da. sob jayga sobar jonno noy. karon amra to sobho jogoter manus. ghore latrin kori ar rastay plastic feli. ami hoy to apnar moto sara bharot borso ghurte parini. but darjeeling charao kolakham, charkhole te gechi, e charao amar ba amader moto kichu manuser prokritir aro kache jete icha thake. jodi sobai sob jaygay powche jay tahole seta ar prokritistho thakbe na.
ReplyDelete