মখমলি বুগিয়ালে ডানা মেলে রোদ

   তুঙ্গনাথের পথে। সবুজ বুগিয়ালে জুড়ে ডানা মেলে থাকে রোদ।

মন সবুজ বুগিয়াল আর এমন ডানা মেলা রোদ দেখলে মনটা হু হু করে ওঠে। মনের ডানায় হাওয়া মেলে উড়ি। ঝাঁপ দিতে ইচ্ছে করে। খাদের ধারে ঈষৎ ঝুঁকে থাকা ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। রডোডেনড্রন গাছগুলো দু'হাত বাড়িয়ে ডাকছিল। হঠাৎই কোথা থেকে উড়ে এসেছিল দলছুট মেঘেরা। তাদের পেলব ছায়া বুগিয়াল জুড়ে কাঁচা হলুদ রোদের সাথে লুকোচুরি খেলে বেড়াচ্ছিল। আমার ওমন ঝুঁকে থাকা ভঙ্গি দেখে সামান্য ঘাবড়ে গিয়েছিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ স্কলার দিব্যা। সে নির্ঘাত ভেবে বসেছিল, ইয়ে পাগল আদমী সুইসাইড করার প্ল্যান ভাঁজছে। তাই দ্রুত পিছন থেকে আমাকে টেনে ধরে ধমকে উঠে বলেছিল,"মরনা হ্যায় ক্যায়া আপকো? আগে খাই হ্যায়, দিখ নেহি রহা হ্যায়! "
ডাকাবুকো দিব্যা একাই বেড়িয়েছে তুঙ্গনাথ দর্শনে। স্মার্ট। ঝকঝকে। পিঠে রুকস্যাক। ছিপছিপে তরুণী দিব্যার মাথায় ক্যাপ। চোখে সানগ্লাস। কিছুক্ষণ আগে পথের ধারে এক চটিতে পাথরের ওপর বসে চা খাচ্ছিলাম। সেখানেই আলাপ ওর সাথে। তারপর জমে গিয়েছে আমার সঙ্গে। খাড়া পথ, স্বাভাবিক কারণেই চড়াই ভাঙতে ভাঙতে নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই দাঁড়িয়ে পড়ছিলাম বারে বারে। আমার আবার গোটা কতক ছানাপোনা আছে, মানে ক্যামেরার সাজসরঞ্জাম আর কী। সেগুলোকে সামলে নিয়ে চলতে হয়। দিব্যা তরুণ তুর্কি ,সে আগে আগে যাচ্ছিল। মাঝে মাঝে পিছন ফিরে কথা বলছিল। আমি হাঁফাতে হাঁফাতে ওর বকবকের উত্তর দিচ্ছিলাম। কিন্তু হটাৎ আমাকে ওভাবে খাদের ধারে ঈষৎ ঝুঁকে থাকতে দেখে ও বোধহয় ঘাবড়ে গিয়েছিল। তাই আমাকে পিছন থেকে টেনে ধরে ধমকে উঠেছিল।
আমি ওকে আশ্বস্ত করে বলেছিলাম, "মরনা কিস কমবক্ত কো হ্যায়? পাখি হতে চাই। বুঝলেন? ডানায় রোদ মাখব। চলুন উড়ি।"
আমার এই উত্তর শুনে প্রথমে দু'পা পিছিয়ে গিয়েছিল দিব্যা। তারপর আমার দিকে হাতের আঙ্গুলের ইশারা করে বলেছিল, 'পাগল আদমী'
দিব্যা এগিয়ে গিয়েছিল চড়াই ভেঙে। পথের বাঁকে হারিয়ে যাওয়ার আগে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখেছিল আমায়। বোধহয় সত্যি ঝাঁপ দিয়েছি কিনা তা দেখার জন্য।  

     তুঙ্গনাথের পথে সবুজ মখমলি বুগিয়াল। 










তুঙ্গনাথের পথে সবুজ মখমলি বুগিয়াল। 

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog