স্বর্গের অপসরাদের স্নানপর্ব লুকিয়ে দেখাটা কি অন্যায়? 
অবশ্যই অন্যায়। কারুর ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে পড়াটা অন্যায় তো বটেই। একেবারে স্নানঘরে উঁকি! একি কথা? সে স্নানঘর খোলা আকাশের নীচে হ্রদ হতেই পারে। তা বলে অপসরাদের স্নানের দৃশ্য লুকিযে লুকিয়ে দেখতে হবে? এ তো ঘোরতর গর্হিত কাজ। আর ন্যায়-অন্যায়ের উর্ধে কেউ নয়। রাজা-রানি-উজির কেউ নয়। তা সেই খোলা আকাশের নীচে ঘন নীল হ্রদের জলে অপসরাদের স্নানপর্ব লুকিয়ে দেখার ফল কী হয়েছিল, সেই গল্পটাই আজ ছোট্ট করে বলব। তবে, তার আগে বলি, সংস্কৃত শব্দ ‘অপ’ যার বাংলা করলে দাঁড়ায় জল। সেই জল থেকে এই নারীদের  জন্ম বলে বলা হয় অপসরা।পুরাণ অনুযায়ী এরা ছিলেন ইন্দ্রের সভানর্তকী। ঋগ্বেদ অনুযায়ী অপসরা হলেন গন্ধর্বের স্ত্রী। যাইহোক, সেই আলোচনায় ঢুকছি না। বরং রাজা রানির গল্পটায় আসি।



                               গুরুদোংমার হ্রদ।
উত্তর সিকিমের ভারত-চিন সীমান্ত ঘেষা এলাকায় প্রায় আঠারো হাজার ফুট উচ্চতায় একটি পবিত্র হ্রদ আছে। তার নাম গুরুদোংমার। এই হ্রদের সঙ্গে বৌদ্ধ ও শিখদের ধর্মীয় ভাবাবেগ জড়িয়ে আছে। হিন্দু ধর্মের মানুষের কাছেও এই হ্রদ অতি পবিত্র হ্রদ। এক সময় এই হ্রদের জলে স্নান করতে আসতেন স্বর্গের অপসরারা। জনশ্রুতি সেই সময় এক রাজা লুকিয়ে দেখতেন অপসরাদের জলকেলি ও স্নানের দৃশ্য। একদিন সেই রাজা তার রানিকেও নিয়ে এলেন অপসরাদের স্নানের দৃশ্য দেখানোর জন্য। রাজা ও রানি সেই স্নানের দৃশ্য উপভোগ করার সময় কোনও ভাবে স্বর্গের অপসরারা তা টের পেয়ে যান। তাঁরা প্রবল রেগে গিয়ে সেই রাজা আর রানিকে ভর্ৎসনা করতে থাকেন। কিন্তু এই কাজ করার জন্য রাজার কোনও অনুতাপ ছিল না। তা দেখে অপসরারা রাজা আর রানিকে অভিশাপ দেন যে, তাঁরা যেখানে দাঁড়িয়ে তাঁদের স্নান ও জলকেলি দেখেছেন সেখানেই তাঁরা পাহাড়ের ন্যায় আজীবন দাঁড়িয়ে থাকবেন। সেই থেকেই রাজা আর রানি বরফ মুকুট পাহাড় হয়েই দাঁড়িয়ে আছেন। এই দুই পাহাড়ের কোনও তথ্য গুগুলের সার্চ ইঞ্জিন দিতে পারবে না। এই কাহিনীর কোনও ঐতিহাসিক ভিত্তিও নেই। শুধু এই তিব্বতি মালভূমি অঞ্চলের ইয়াক পালকদের মুখে মুখে ঘোরে এই কাহিনি। তারাই এই দুই পর্বতের নাম দিয়েছিলেন ‘রাজা-রানি’ পাহাড়। 

                                   রাজা-রানি পাহাড়। 

গুরুদোংমার লেকের পিছন দিকে এই দুই পাহাড়ের অবস্থান। ভারত –চিন সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানে আম পর্যটকদের যাওয়া নিষেধ। সেনাবাহিনীর অনুমতি মেলে না। ফলে এই দুই পর্বত এখনও অজেয়। সাধারণত গুরুদোংমার লেক পর্যন্তই পর্যটকদের যাওয়ার ছাড়পত্র মেলে। এই গুরুদোংমার লেক থেকে সাত কিলোমিটার দূরে আরও একটি নয়নাভিরাম লেক আছে। তার নাম ছোলামু হ্রদ (Tso Lhamo lake)।
কিন্তু সেখানে যাওয়ার বিধিনিষেধ রয়েছে। ছোলামু যাওয়ার জন্য সেনা বাহিনি ও সিকিম প্রশাসনের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। তবে এই ছোলামু লেকই হচ্ছে ভারতবর্ষের সবথেকে উঁচুতে অবস্থিত লেক। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গুরুদোংমার।

Comments

  1. দারুন... দাদা আপনার প্রতি টি লেখা এবং ভিডিও অনবদ্য এটাও... খুব ভালো থাকবেন... ফেসবুক এ বন্ধুত্ব টা হলে আরো ভালো লাগত... অনেক কিছুই জানতে পারতাম আরও...

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog